রেসিপি: রূপচাঁদা ফ্রাই

5 months, 2 weeks ago রেসিপি

এই বিশাল ঢাকা শহরে আমার ব্যাচেলরীয় জীবনে রূপচাঁদা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদর করে আমি একে হাই-স্পীডি ফিশ বলে ডাকি। সেটা অবশ্য রূপচাঁদার নিজস্ব গতির জন্য নয়। বরং দ্রুততম সময়ে রূপচাঁদা ফ্রাই করে খাওয়া যায় বলে। রূপচাঁদা ফ্রাই করা অনেকটা ধর তক্তা মার পেরেকের মত। লেটস ডু ইট!

উপকরণ

  • চারটে মাঝারি সাইজের (২৫০-৩০০ গ্রাম) রূপচাঁদা মাছ
  • এক চা চামচ হলুদের গুঁড়া
  • দুই চা চামচ মরিচের গুঁড়া
  • হাফ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়া
  • দুই চিমটি লবণ
  • এক চিমটি পাঁচ ফোড়ণ
  • এক চিমটি মেথি
  • পরিমাণ মত সরিষার তেল
  • একটা দেশি পেঁয়াজ
  • একটা ফ্রাই প্যান
  • একটা খুন্তি
  • একটা ছুরি

আমি সবকিছু আমার হিসেব করে বললাম। আপনি চাইলে একটা-দুইটা-পাঁচটা রূপচাঁদাকে একসাথে ফ্রাই করতে পারেন আর হলুদ-মরিচ-লবণ-তেল খুশিমত খরচ করতে পারেন।

ডিসক্লেইমার

ধারাভাষ্যে যাওয়ার আগে ডিসক্লেইমার দেয়া দরকার। আমি একজন ব্যাচেলর, ঢাকা শহরে ঠেকায় পড়ে রান্নাবান্না শিখছি। এই রেসিপি ফলো করে বিপদে পড়লে আমার কোন দায়-দায়িত্ব নাই।

ধারাভাষ্য

প্রথমেই পানি দিয়ে বেয়াদব মাছগুলোকে আচ্ছামত ধুয়ে দিন। এবার ছুরি দিয়ে পাছের পাখনা, লেজ ও মুখের শুরুর দিকটা কেটে ফেল দিন। মাছের গায়ে আড়াআড়ি ভাবে ছুরি দিয়ে কোপা সামসু স্টাইলে পোছ দিন। প্রতি পিঠে চারটে করে মোট আটটি পোছ দিন প্রতিটি মাছে। এতে করে মাছের ভিতর ভালমত মশলা ঢুকবে।

মাছ কাটা হয়ে গেলে এক চা চামচ সরিষার তেল এবং সকটুকু হলুদ, মরিচ, গরম মশলার গুঁড়া ও লবণ মাখিয়ে ভালমত পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্টকে মাছগুলোর গায়ে ভাল করে মাখিয়ে নিন। মাছের কাঁটা ঘায়ে লবণের ছিটা, থুক্কু পেস্ট দিতে ভুল করা চলবে না। এই অবস্থায় ৩০ মিনিট রেখে দিলে ভাল হয়। এই অবসরে সিসিমপুরের হালুমের মত গান গাইতে পারেন:

মাছ ভাজা খেতে কি মজা
তাই তো আমি সারাটা দিন মাছ খাই
খেতে কি যে মজা লাগে
তাই ইচ্ছেমত আমি হাপুস-হুপুস খাই।

গান গাওয়া শেষ করে পেঁয়াজ কুচি কুচি করে কেটে রাখুন। এবার একটা ফ্রাই প্যানে তিন চা চামচ সরিষার তেল নিয়ে অল্প আঁচে গরম করুন। তেল গরম হয়ে গেলে একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে একটা মাছকে প্যানে ছেড়ে দিন। এক পিঠ মোটামুটি ভাবে ভাজা হয়ে গেলে মাছটিকে উল্টে দিন। এই পিঠও মোটামুটিভাবে ভাজা হয়ে গেলে আবার উল্টে দিন মাছটিকে। উল্টানো হয়ে গেছে? এখন সেই সময়! তেলের ভিতর পাঁচ ফোড়ণ, পেঁয়াজ কুচি ও মেথি ছেড়ে দিন। নাসিকাগ্রন্থি সচল থাকলে চমৎকার ঘ্রাণ অনুভব করতে পারবেন। এভাবে সবসমেত উল্টেপাল্টে মাছটাকে প্রয়োজনমত ভাজুন। ভাজার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাছ যেন প্যানের সাথে পার্মানেন্টলি লেগে না যায়।

হয়ে গেল ব্যাচেলরীয় পদ্ধতিতে রূপচাঁদা ফ্রাই।

আগের পোস্ট পরের পোস্ট
মন্তব্য করুন
আপনি কি কমেন্ট গাইডলাইন পড়েছেন?

দয়া করে, বাংলায় গঠনমূলক মন্তব্য করুন এবং রোমান হরফে বাংলা লেখা থেকে বিরত থাকুন।